Home / খুলনা / ক্ষুদ্র সারপ্রাইজ

ক্ষুদ্র সারপ্রাইজ

ধবধবে সাদা চুল আর মুখ ভর্তি পাকা দাড়িওয়ালা বুড়ো লোকটির ছবি যে কারও সামনে তুলে ধরলেই সে চিনে ফেলবে। এই বুড়ো লোকটাকে কখনোই কাছ থেকে দেখতে পাইনি। আমার জন্মের বহু আগেই সে চলে গেছে অনেক দূরে। যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে… লিখে রেখে গেছে অসাধারণ এই কথাগুলো। সেই বুড়ো মানুষটি বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যে পথে হেঁটেছেন তা আজ মিলনমেলা। তার পদচিহ্ন পড়েছে এমন একটি জায়গাতে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল এবারের ঈদে। কুষ্টিয়াতে রাজিবদের বাসায় বেড়াতে যাই ১৩ সেপ্টেম্বর। বিকালে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে রাজিব মোটরসাইকেলে করে আমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যায়। সারি সারি ইটের স্তম্ভ। সেখানে বিভিন্ন কথা লেখা। প্রতিটা লেখায় স্পষ্ট ফুটে ওঠে কারবালা প্রান্তর। জায়গাটার নাম লাহিনীপাড়া। বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা। রাজিব আমাকে এমন একটা সুন্দর জায়গাতে নিয়ে আসবে তা আমি ভাবতেও পারিনি। আমার অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হল। বাসায় ফিরব বলে রাজিব আবার মোটরসাইকেল স্টার্ট দিল। অচেনা রাস্তা, যে পথ দিয়ে এসেছি সে পথ নয় এটা। আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম এদিকে কেন? ও বলল মামা এটা শর্টকাট রাস্তা। কুষ্টিয়া যেহেতু আমার অচেনা, তাই কথাগুলো বিশ্বাস করলাম। হঠাৎ মানুষের ভিড়, রাজিবও মোটরসাইকেল থামিয়েছে। আমি কোনও প্রশ্ন করতে পারিনি। চোখের সামনে বিশাল নামফলক। শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী, ইচ্ছে হচ্ছিল আমার বোনের অসাধারণ এই ছোট্ট ছেলে রাজিবকে জড়িয়ে ধরি। ও আমাকে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। আমি ওকে হাজার বার ধন্যবাদ দিয়েছি। আমি ভাবতে পারি না এই মাটি যেখানে ঠিক এই মুহূর্তে আমি দাঁড়ানো, এখানে একদিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদচারণা ছিল। ছুঁয়ে দেখি সত্যিই এখনও তার পরশ লেগে আছে। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী এবং মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা ভ্রমণের কথা আজীবন মনে থাকবে। রাজিবকে কৃতজ্ঞতা জানাতেই বলল, মামা এবার ঈদে তোমাকে কিছু দিতে পারিনি তো তাই এই ক্ষুদ্র সারপ্রাইজ দিলাম। ওকে কিছু না বললেও মনে মনে বলেছি, রাজিব তুমি যেটাকে ক্ষুদ্র সারপ্রাইজ বলছ, সেটা আমার আজীবনের লালিত স্বপ্ন।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *