Home / রংপুর / বেগম রোকেয়ার রংপুরে

বেগম রোকেয়ার রংপুরে

আমি, জামিল, দিদার আর তৌহিদ ছুটে চলেছি রংপুর অভিমুখে। রংপুর যাওয়া নিয়ে অনেকের প্রশ্ন- কী আছে ওখানে, কোনো মানে নেই রংপুর যাওয়ার। আমার কথা হল ৫০-এর অধিক জেলা ঘুরে ফেললাম আর রংপুর গেলাম না, ব্যাপারটা কেমন কেমন হয়ে গেল না। আর না গেলে জানব কীভাবে কী আছে। ইনস্ট্যান্ট ডিসিশনে এ যাত্রা।
ঢাকা থেকে রাতে রওনা দিয়ে ভোর ৬টায় রংপুর নেমে পড়লাম আরেক বিপদে। বাসে আমার সিটের পাশে একটা মোবাইল পড়ে থাকায় তুলে নিলাম হাতে। কেন যেন মনে হয়েছিল ওটা দিদারের। ওরটা ওর পকেটে থাকায় শুরু হল নতুন ভোগান্তি, এর মালিককে কই খুঁজে পাই, শুরু হল অপেক্ষার পালা, কখন মালিকের খেয়াল হয়। অবশেষে প্রায় আধাঘণ্টা পর মালিকের খোঁজ পাওয়া গেলে ফোনটা বাস কাউন্টারে রেখে আমরা দুটো রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। চালককে বলে দিলাম ঘুরিয়ে দেখান রংপুর। পুরো শহরই মোটামুটি ঘুরে আমরা চলে গেলাম কারমাইকেল কলেজে।
বিশাল ক্যাম্পাস। সময়টা ছিল শীতকাল। গাছপালা ভরপুর মনোরম পরিবেশে সুন্দর ভোরটা কেটে গেল। রংপুর নেমেই টের পেয়েছিলাম শীতকালে এখানে কেমন ঠাণ্ডা পড়ে, কারণ এ সময়েই ভোরে বেশ ভালো ঠাণ্ডা পড়ছিল।
প্রাতরাশ শেষে আমাদের গন্তব্য তাজহাট জমিদারবাড়ি। যেটাকে এরশাদ সরকারের আমলে হাইকোর্টের একটা বেঞ্চ হিসেবে কিছুদিন ব্যবহার হওয়ার পর জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। ২৪টি কামরা সংবলিত মার্বেল পাথরের ফ্লোরের এ বাড়ি। সংলগ্ন পুকুরগুলো ভর্তি আমাদের জাতীয় ফুল শাপলায়। পাশে অনেক গাছগাছালির বিশাল কালেকশন।
সেখান থেকে আমাদের যাত্রা বাঙালি নারীর মুক্তির অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের স্মৃতিবিজড়িত পায়রাবন্দে। বেগম রোকেয়ার ভিটেমাটি ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক আগেই। সেখানে তৈরি হয়েছে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স, যেখানে বিকেএমই বিনামূল্যে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে।
রংপুরের ভিন্নজগতের কথা শুনেছি অনেকবার। ব্যাটারিচালিত যানে করে আমরা হাজির হই ভিন্নজগতে। বিশাল জায়গা নিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি এ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। সারা দিন কাটানোর মতোই একটা জায়গা। ভালো লাগবে গাছপালা শোভিত এ এলাকাটা, এখানেই দেখলাম মুক্ত বিহঙ্গ- স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য, যেটাকে এ বিষয়ে নির্মিত ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে সেরা মনে হল আমার।
যাওয়ার সময় এক বন্ধু বলেছিল রংপুর চিড়িয়াখানাটাও নাকি অনেক সুন্দর। হাতে যেহেতু সময় আছে তাই ওদিকটায়ও এক চক্কর দিয়ে এলাম।
রাতে আবার ঢাকার পথে। স্বপ্নে দেখা সে প্রশান্ত বাগানে না ঘুরলেও একদিন চমত্কারভাবে কাটানোর জন্য ঘুরে আসতে পারেন রংপুর। আর সবচেয়ে বড় কথা হল প্রিয় বন্ধুরা সঙ্গে থাকলে আসলে যে কোনো জায়গায় ঘুরে আসা যায়-বন্ধুতা আর ভালো লাগা যে আসলে সমার্থক!

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *